IPL অভিষেকেই ইতিহাস গড়লেন অশ্বনী কুমার: এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা

মাত্র একটা কলা খেয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি, আর সেখান থেকেই রচনা করলেন ইতিহাস! অশ্বনী কুমার—একজন অনামী ক্রিকেটার থেকে রাতারাতি আইপিএলের নতুন সেনসেশন। প্রথম ম্যাচেই চার উইকেটের নজির! কীভাবে পাঞ্জাবের এই তরুণ লড়াই করে উঠে এলেন? জানুন তার চমকপ্রদ গল্প পিনাকী রঞ্জন পালের সাথে।

ক্রিকেট এমন এক খেলা, যেখানে সুযোগ এলে সেটাকে কাজে লাগানোই আসল। আর সেই কাজটাই দুর্দান্তভাবে করে দেখালেন পাঞ্জাবের তরুণ পেসার অশ্বনী কুমার। আইপিএল অভিষেকেই চার উইকেট নিয়ে তিনি প্রথম ভারতীয় বোলার হিসেবে এই নজির গড়লেন। শুধু তাই নয়, অভিষেক ম্যাচের প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার বিরল রেকর্ডের তালিকাতেও নিজের নাম তুললেন তিনি।

পাঞ্জাবের মোহালির ঝনজেরীতে জন্মগ্রহণ করা অশ্বনী কুমার ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। ১৮ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। এরপর একদিনের ম্যাচ ও টি-টোয়েন্টিতেও নিজের প্রতিভার ঝলক দেখান। তবে তাকে মূলধারার ক্রিকেটে পরিচিতি এনে দেয় শের-ই-পাঞ্জাব টি২০ ট্রফি। এই লিগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে তিনি পাঞ্জাবের সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির দলে সুযোগ পান এবং সেখানে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন। বিজয় হাজারে ট্রফিতেও তার পারফরম্যান্স নজর কাড়ে, যেখানে অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে তিন উইকেট নিয়েছিলেন।

মুম্বই ইন্ডিয়ান্স সবসময়ই প্রতিভাবান তরুণদের তুলে আনার জন্য পরিচিত। স্কাউটরা যখন পাঞ্জাবের লিগে তার পারফরম্যান্স দেখেন, তখনই তারা বুঝতে পারেন, অশ্বনী ভবিষ্যতে দলের সম্পদ হতে পারেন। অবশেষে ৩০ লাখ টাকায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের স্কোয়াডে জায়গা করে নেন এই তরুণ পেসার।

মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে কেকেআরের বিরুদ্ধে নিজের প্রথম আইপিএল ম্যাচেই বাজিমাত করলেন অশ্বনী কুমার। প্রথম ওভারেই উইকেট, তারপরে একের পর এক আঘাত।

প্রথম ওভারেই কেকেআরের অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানেকে ফিরিয়ে দেন। এরপর রিঙ্কু সিং ও মণীশ পাণ্ডেকে আউট করেন। সবচেয়ে বড় উইকেটটি ছিল আন্দ্রে রাসেলের, যাকে বোল্ড করেন নিজের গতির জাদুতে। অভিষেক ম্যাচেই চার উইকেট তুলে নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেন অশ্বনী।

ম্যাচের পর সঞ্চালকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অশ্বনী জানান, অভিষেকের আগে তিনি এতটাই চাপে ছিলেন যে, ভালো করে খেতেই পারেননি! তিনি বলেন, “স্রেফ একটা কলা খেয়ে মাঠে নেমেছিলাম। খুব একটা খিদে পাচ্ছিল না।”

অশ্বনীর জীবনের গল্প অনেক তরুণ ক্রিকেটারের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে। ছোটখাটো রাজ্যের লিগ থেকে উঠে এসে আইপিএলের মতো বিশাল মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করা সহজ কাজ নয়। কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কিছুই অসম্ভব নয়, তা প্রমাণ করলেন এই তরুণ পেসার।

ম্যাচের পর অশ্বনী জানান, “আগে থেকেই আমাকে বলা হয়েছিল, অভিষেক ম্যাচ উপভোগ করতে এবং নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে। হার্দিক ভাই আমাকে শর্ট বল করতে বলেছিলেন, এবং সেটাই আমি করেছি।”

আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতায় এক ম্যাচই ভাগ্য বদলে দিতে পারে। অশ্বনী কুমারের ক্ষেত্রেও তেমনটাই হতে চলেছে। তিনি কি ভবিষ্যতে ভারতের জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে পারবেন? উত্তর সময়ই দেবে। তবে একথা নিশ্চিত, এই তরুণ পেসারের নাম আরও বহুদিন ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে থাকবে।

একটা সুযোগই যথেষ্ট যদি কেউ সেটাকে কাজে লাগাতে জানে। অশ্বনী কুমার সেই সুযোগকে শুধু কাজে লাগাননি, বরং ইতিহাসও গড়েছেন। তার এই গল্প যে কোনো তরুণ ক্রিকেটারের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং লড়াইয়ের মানসিকতা থাকলে যে কিছুই অসম্ভব নয়, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন পাঞ্জাবের এই তরুণ তুর্কি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *