জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের গড়ালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাঙ্গাপাড়ায় এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মৃতার নাম মকছেদা খাতুন (২৬), বাড়ি মূলত হলদিবাড়িতে। তিন বছর আগে তার বিয়ে হয়েছিল স্থানীয় যুবক রানা হোসেনের সঙ্গে।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা মকছেদাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল সেই অত্যাচার। অভিযোগ আরও গুরুতর— হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল বিকেলে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মকছেদার নিথর দেহ ফেলে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খবর দেন পুলিশকে। আজ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি জলপাইগুড়ি মর্গে পাঠানো হয়।
মকছেদার পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে জলপাইগুড়ি মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা না খুন, তা জানতে তদন্তকারীরা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায়।

স্থানীয়রা জানান, মকছেদা ছিল শান্ত ও পরিশ্রমী স্বভাবের মেয়ে। তার অকাল মৃত্যুতে স্তব্ধ গোটা পাড়া। এক প্রতিবেশীর কথায়, “মকছেদা হাসিখুশি মেয়ে ছিল, ওর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটবে ভাবতেও পারিনি।”
ঘটনাটি এখন জলপাইগুড়ি জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে।
